গুগল এডসেন্স অনুমোদন না হওয়ার কারন

আমরা গত পর্বে আলোচনা করেছি গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায় নিয়ে। কিন্তু আজকের পোস্টে আমরা আলোচনা করবো গুগল এডসেন্স অনুমোদন না হওয়ার কারন নিয়ে।

সাম্প্রতিক সময়ে অনেক ভালো মানের ব্লগার আছেন যারা কি না বার বার গুগল এডসেন্স এর জন্য আবেদন করা সত্ত্বেও গুগল এডসেন্স রিজেক্ট করছে। ফলে তারা সফলতা না পেয়ে এই ব্যার্থতাকে মেনে নিয়ে ব্লগিং ছেড়ে দিচ্ছেন।

আবার অনেকেই এই হতাশাকে মেনে নিয়ে বার বার চেষ্টা করছেন কিন্তু গুগল এডসেন্স পাচ্ছেন না।

আজকের আর্টিকেল টি শুধু মাত্র তাদের জন্য যারা বার বার গুগল এডসেন্স এর জন্য আবেদন করার পরও এডসেন্স পাচ্ছেন না।

এই আর্টিকেলে আমরা গুগল এডসেন্স অনুমোদন না হওয়ার ১০ টি কারন তুলে ধরবো৷ যা আপনার ভুল গুলো সংশোধন করতে অনেক বেশি সাহায্য করবে।

পর্যাপ্ত কনটেন্ট না থাকা

একটি কথা আমি এর আগেও বলেছি “ব্লগ যদি কাঠাম হয় তার প্রান হলো কনটেন্ট” একটি ব্লগ সাইট বা ওয়েবসাইটের মূল ভূমিকা পালন করে থাকে তার কনটেন্ট এর উপর।

আপনার ব্লগের লেখার মান যত বেশি ভালো হবে তত বেশি ভিজিটর পাবেন।

সুতারাং এডসেন্স আবেদন করার পূর্বে ব্লগে ২৫/৩০ টি ভালো মানের আর্টিকেল পাবলিশ করতে হবে এবং সেই আর্টিকেল গুলোতে পর্যাপ্ত কনটেন্ট থাকতে হবে।

এদিকে খেয়াল রাখবেন পোস্ট গুলো যেন ইউনিক হয় এবং প্রত্যেকটি ক্যাটাগরিতে ৫ টি বা তার অধিক আর্টিকেল পাবলিশ করার চেষ্টা করবেন।

আপনার ব্লগে যদি পর্যাপ্ত ইউনিক কনটেন্ট থাকে আপনি শতভাগ নিশ্চিত থাকেন গুগল আপনাকে এডসেন্স অনুমোদন দিবে।

  • ব্লগের বয়স কম হওয়া

আমরা একটা অতি সাধারাণ ভুল করে থাকি তা হলো ব্লগ সাইট খুলেই ২/৩ দিনের মধ্যে ইনকামের জন্য এডসেন্স এর জন্য আবেদন করে থাকি। ফল সরূপ গুগল আমাদের ব্লগটি রিজেক্ট করে দেয়।

কিন্ত গুগল এডসেন্স আবেদন করার পূর্বে আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে ব্লগের যেন ৫/৬ বয়স হয়।

ব্লগের বয়স কম থাকলে গুগল আপনাকে এডসেন্স এর অনুমোদন দিবে না। এজন্য ব্লগের বয়স ৫ মাস পূর্ন না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

  • ইউনিক কনটেন্ট না থাকা।

ব্লগে বা ওয়েবসাইটে এডসেন্স অনুমোদন না হওয়ার অন্যতম একটি কারন হলো ব্লগে ইউনিক কনটেন্ট না থাকা।

ব্লগে যদি ইউনিক কনটেন্ট না থাকে কোন ভাবেই গুগল এডসেন্স অনুমোদন পাবেন না।

গুগল এডসেন্স অনুমোদন এর জন্য আপনার ব্লগে ২০/৩০ টি ভালো মানের ইউনিক কনটেন্ট পাবলিশ করতে হবে।

কোন ভাবেই কারো কনটেন্ট কপি করে নিজের ব্লগে পাবলিশ করবেন না৷ তাহলে তো এডসেন্স অনুমোদন পাবেনই না বরং কনটেন্ট এর মেইন মালিক চাই আপনার বিরুদ্ধে আইনি একশন নিতে পারবে।

  • কোয়ালিটি কনটেন্ট না থাকা

ব্লগে শুধু মাত্র কনটেন্ট পাবলিশ করলেই গুগল আপনার এডসেন্স অনুমোদন দিবে না। গুগল এডসেন্স অনুমোদন এর জন্য কোয়ালিটি কনটেন্ট পাবলিশ করতে হবে।

এমন কিছু কনটেন্ট পাবলিশ করতে হবে যেগুলো মানুষ জানতে চাই এবং সেগুলো পরিস্কার করে শুদ্ধ বানানে লিখতে হবে।

ব্লগে কোয়ালিটি কনটেন্ট না থাকলে গুগল এডসেন্স অনুমোদন পাওয়া সম্ভব না।

গুগল এডসেন্স অনুমোদন এর জন্য ২৫/৩০ টি ভালো মানের কোয়ালিটি কনটেন্ট পাবলিশ করতে হবে। তাহলে গুগল এডসেন্স এর জন্য অনুমোদন দিবে।

  • অনুপযুক্ত কনটেন্ট থেকে বিরত থাকা

আপনার ব্লগে যদি অনুপযুক্ত কনটেন্ট থাকে তাহলে গুগল আপনাকে রিজেক্ট করতে পারে। এমন কিছু কনটেন্ট আছে যেগুলো গুগল এডসেন্স এর পলিসির বাহিরে সে গুলো থেকে বিরত থাকতে হবে।

এমন অনেক কনটেন্ট আছে যেগুলো সাধারন মানুষের ক্ষতি হবে এমন কনটেন্ট কনটেন্ট গুলো গুগল পলিসির বাহিরে।

এগুলো যত বেশি ভিজিটর পাবেন না কেন গুগলের কাছে এমন কনটেন্ট এর ভ্যালু শূন্য।

  1. মারাত্মক অস্ত্রের বিজ্ঞাপন।
  2. হ্যাকিং বা ক্রাকিং টিপস।
  3. পরস্পর বিরোধী কনটেন্ট।
  4. পর্ণগ্রাফি/Adult কনটেন্ট।
  5. বিভিন্ন মাদক জাতীয় দ্রব্যের প্রচার।
  6. থার্ড পার্টি ভিডিও শেয়ারিং ব্লগ সাইট।
  7. Alcohol দ্রব্যের প্রতি আকৃষ্ট করা।

উপরের ৭ টি বিষয়ের উপর কনটেন্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে তাহলে গুগল এডসেন্স অনুমোদন পাবেন।

  • ব্লগের ডিজাইন ভালো না হওয়া

গুগল এডসেন্স অনুমোদন এর জন্য ব্লগের ডিজাইন সুন্দর হতে হবে। আকর্ষনীয় ডিজাইন গুগল এডসেন্স অনুমোদন পেতে অনেক বেশি সাহায্য করে।

গুগল এডসেন্স অনুমোদন এর জন্য আগে আপনার ব্লগের ডিজাইন সুন্দর ও আকর্ষনীয় হতে হবে

এবং সাইটের স্পিড অতি গতি সম্পূন্ন হতে হবে। সেই সাথে ব্লগটিকে এমন ভাবে সাজাতে হবে যাতে করে একজন ভিজিটর এসে ব্লগ টিকে ঘুরে দেখে।

মনে করুন ব্যবসার জন্য আপনি দোকান দিয়েছেন এখন এই দোকানে যদি পণ্য সামগ্রি না না থাকে তাহলে কি কাস্টমার আসবে?

তদ্রুপ আপনার ব্লগটিকেও তেমন ভাবেই আর্টিকেল দিয়ে সাজাতে হবে। তবেই একজন ভিজিটর এসে ব্লগটিকে ঘুরে দেখবে।

এই পোস্ট গুলো আপনার ভালো লাগতে পারে——

  • পর্যাপ্ত ভিজিটর না থাকা

একটি ব্লগকে গুগল তখনই মূল্যায়ন করবে যখন সেই ব্লগে অধিক ভিজিটর থাকবে। গুগল এডসেন্স অনুমোদন এর জন্য ব্লগে পর্যাপ্ত ভিজিটর থাকতে হবে।

আপনি হয়তো এখন চিন্তা করতে পারেন ফেসবুক, টুইটার বা অন্য কোন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলো থেকে ভিজিটর নিয়ে গুগল এডসেন্স অনুমোদন নিবেন। কিন্তু এতে হিতের বিপরীত হতে পারে।

এজন্য ব্লগকে অন পেজ এসিও করতে হবে এবং অফ পেজ এসিও করে গুগল সার্চ ইঞ্জিন থেকে অর্গানিক ভিজিটর নিতে হবে।

কারন, গুগল বর্তমানে শুধু অর্গানিক ট্রাফিকের মূল্যায়ন করে।

আপনার ব্লগ সাইটে যদি প্রতিদিন ২৫০/৩০০ ভিজিটর আসে, তখনই গুগল আপনাকে এডসেন্স এর জন্য অনুমোদন দিবে।

  • টপ লেভেল ডোমেইন ব্যবহার করা

গুগল এডসেন্স অনুমোদন এর ক্ষেত্রে টপ লেভেল ডোমেইন অন্যতম ভূমিকা পালন করে থাকে। কিছুদিন আগেও সাব ডোমেইন (Sub Domain) ব্যবহার করে গুগল এডসেন্স পাওয়া যেতো।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে গুগল এডসেন্স পাওয়ার জন্য টপ লেভেল ডোমেইন ব্যবহার করার নির্দেশ করার দিয়েছেন এডসেন্স বিশেষজ্ঞরা।

সুতারাং অতি দ্রুত এডসেন্স পাওয়ার জন্য একটা ভালো মানের কাস্টম ডোমেইন ব্যবহার করতে হবে।

টপ লেভেল ডোমেইন এর জন্য অনেক সময় এডসেন্স রিজেক্ট হতে পারে।

গুগল এডসেন্স অনুমোদন না হওয়ার কারন

গুগল এডসেন্স অনুমোদন না হওয়ার উপরে বেশ কিছু কারন নিয়ে আলোচনা করেছি। তবে এগুলো ছাড়াও নিচের কারন গুলোর জন্য গুলো এডসেন্স অনুমোদন পেতে সমস্যা হতে পারে।

নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:

  • আবেদন কারীর বয়স ১৮ বছর না হওয়া।
  • ব্লগে Malware এ আক্রান্ত হলে।
  • গুগল এডসেন্স পলিসি অনুসরন না করা।
  • সাইটের কনটেন্টের ভাষা সাপোর্ট না করলে।
  • সাইটের Navigation সহজে বুঝা না গেলে।

শেষ কথা

আমারা যারা ব্লগিং করি সবারই একটা স্বপ্ন থাকে গুগল এডসেন্স অনুমোদন নিয়ে। যারা ব্লগে এডসেন্স অনুমোদন পেয়েছে তারা মাসে $300 থেকে $1000 ইনকাম করছে।

এজন্য যারা এখনও ব্লগে গুগল এডসেন্স অনুমোদন পান নাই তারা উপরের ভুল গুলো করে থাকলে সংশোধন করে নিন।

এবং ব্লগে এসইও ফ্রেন্ডলি পোস্ট পাবলিশ করেন। সেই সাথে কোন সমস্যা হলে Comment করবেন। আমাদের টিম খুবই দ্রুত আপনার সমস্যার সমাধান দিবে ইনশাআল্লাহ।

Share on:
Avatar

আমি নাসিম পারভেজ, এই সাইটটির প্রতিষ্ঠাতা। এই সাইটে টিপস & ট্রিকস সহ অনলাইন ইনকাম, ফ্রি ইন্টারনেট অফার ছাড়াও আরো টেকনোলজি বিষয়ের উপর সঠিক ও নির্ভুল তথ্য দেওয়া হয়।

3 thoughts on “গুগল এডসেন্স অনুমোদন না হওয়ার কারন”

  1. আপনার সাথে কিছু কথা ছিল আমার ব্লগ সাইট নিয়ে আপনার কোন ইউটুব চ্যানেল আছে

    Reply
    • আমার কোন ইউটিউব চ্যানেল নাই। আপনি আমার সাথে সরাসরি কলে কথা বলতে পারেন। অথবা ফেসবুকে ম্যাসেজ করতে পারেন।

      আমার ফেসবুক আইডি- https://www.facebook.com/fahad.ok2

      Reply

Leave a Comment